নোয়াখালীর চাটখিলে ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী সৈয়দ হাসান মাহমুদ চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ভীমপুর এলাকার হালিমা দিঘীরপাড়স্থ পি.জি. স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ব্যবসায়ী ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধলীয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার মায়ের ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং নিজের কেনা সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এ বিরোধে চাটখিল উপজেলার ৫ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাকড়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে ও তার সৎ মামা মো. সোলেমান হোসেনসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সৈয়দ হাসান মাহমুদ দাবি করেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাকে গাড়িচাপাসহ নানা উপায়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১টার দিকে ভীমপুরের পি.জি. স্কুল সংলগ্ন ব্রিজে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার প্রাইভেটকারের গতিরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় মো. সোলেমান হোসেনের নেতৃত্বে থাকা একজন ব্যক্তি ওয়ান শুটার দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
এরপর এক ব্যক্তি পেছন থেকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন সৈয়দ হাসান মাহমুদ। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় সৈয়দ হাসান মাহমুদকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সৈয়দ হাসান মাহমুদ বাদী হয়ে মো. সোলেমান হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে রোববার সকালে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।