1. info@www.dailysonalisurjo.com : দৈনিক সোনালী সূর্য :
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

চিকিৎসা সনদ নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষক রুবেলের ছুটি আবেদনে তদন্ত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে




গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১৬ নম্বর জাংগালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুবেল হোসেনের ১৫ দিনের ছুটির আবেদনে দাখিল করা দুটি চিকিৎসা সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত দুটি পৃথক নথি জমা দেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, ছুটি মঞ্জুরের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম কুমার জানান, বিষয়টি আনুমানিক এক মাস আগে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ৩৮.০১.৩৫৪৩.০০০৩৮.০০০.২০২৩.৩২৬।

জানা গেছে, গত ১৯ জুন থেকে প্রায় ১৫ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন শিক্ষক রুবেল হোসেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশিত রঞ্জন ঘোষালকে তার স্ত্রী মুঠোফোনে জানান, রুবেল হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে প্রধান শিক্ষক তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে একাধিকবার তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানা যায়।

এরপর রুবেল হোসেনের স্ত্রী ও উপজেলার ২৪ নম্বর হরিদাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমা খানম উপজেলা শিক্ষা অফিসে একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি জমা দেন। নথিটিতে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে উত্তরা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে চিকিৎসা নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিলসহ ১৫ দিনের বিশ্রামের পরামর্শ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা রয়েছে।

এর একদিন পর একই তারিখের কাশিয়ানী ১০০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার স্বাক্ষর করা আরেকটি চিকিৎসা সনদও জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুরের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন করেন রুবেল হোসেন। আবেদনে ১৯ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের একই তারিখের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি দাখিলের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নজরে এলে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে প্রাথমিকভাবে তার বেতন স্থগিত করে নথিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, “সহকারী শিক্ষক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে পাঠানো চিকিৎসা সনদ ও অভিযোগপত্রের সফট কপি গতকাল পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিস গতকাল আমাকে পাঠিয়েছে। তবে এক মাস আগে পাঠানোর বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আজ সিভিল সার্জনের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠিয়েছি। সুস্থ থাকা অবস্থায় অসুস্থতার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরির বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিন মিয়া বলেন, সুস্থ থাকা অবস্থায় অসুস্থ দেখিয়ে চিকিৎসা সনদ নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে শুধু বেতন স্থগিত নয়, প্রতারণা বা জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে চিকিৎসা সনদ দুটি বৈধ কি না এবং শিক্ষক রুবেল হোসেন প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ ছিলেন কি না—তা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সোনালী সূর্য-২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!