গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব, কলেজের সভাপতি দাবি এবং বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়া, হাজিরা ও নোটিশ খাতা সাময়িকভাবে না পাওয়া এবং সাবেক অধ্যক্ষের বিদায়কে কেন্দ্র করে কলেজে অস্থির পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজে গিয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই দিন অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলছিল। এদিন শিক্ষকরা কলেজে উপস্থিত হওয়ার পর কক্ষের তালা খোলা হয়।
পরে দেখা যায়, শিক্ষকদের হাজিরা খাতা এবং কলেজের রেজুলেশন বা নোটিশ সংক্রান্ত খাতা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু সময় পর কলেজের এক কর্মচারীর মাধ্যমে খাতাগুলো ফেরত পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে কাশিয়ানী থানা পুলিশের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সাবেক অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদের অবসরজনিত বিদায়কে কেন্দ্র করেই বর্তমান পরিস্থিতির সূত্রপাত।
বিদায়ের সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম সরদারকে অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের নথিপত্র ও চাবিও তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে কলেজটির সভাপতি হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক সরদার নুরুজ্জামান।
তিনি বলেন, কে বা কারা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দিয়েছে কিংবা কলেজের নথিপত্র সরিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে তিনি নিজেকে কলেজের সভাপতি দাবি করে বলেন, বিদায়ী অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদ তার কাছে কোনো দায়িত্ব বা নথিপত্র বুঝিয়ে দেননি।
সরদার নুরুজ্জামান আরও বলেন, কলেজে এসে তিনি দেখতে পান নতুন একজন অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। সভাপতি হিসেবে বিষয়টি জানতে চাইলে চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ তাকে সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র দেখাতে বলেন।
অন্যদিকে চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম সরদার বলেন, বিদায়ী অধ্যক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। রোববার তার দায়িত্ব পালনের প্রথম কর্মদিবস ছিল বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষের কক্ষে তালা এবং নথিপত্র না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কলেজ দুই দিন বন্ধ থাকায় তিনি এক কর্মচারীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, কে বা কারা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দিয়েছে। তবে রোববার কলেজে এসে তিনি কক্ষটি খোলা অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, শুরুতে শিক্ষকদের হাজিরা খাতা ও নোটিশ খাতা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অফিসের এক কর্মচারী খাতাগুলো নিয়ে এসে দেন।
কলেজের সভাপতি দাবির বিষয়ে মোহাম্মদ সেলিম সরদার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বা অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকে কলেজের সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়া বলেন, কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখভাল করবে। তবে পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হতে দেওয়া হবে না।