বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বুধবার সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতুলের পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে গত ২০ আগস্ট পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছিলেন তিনি। রয়টার্সের সূত্রগুলো বলছে, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে ডব্লিউএইচও।
পুতুলের পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ডব্লিউএইচওর কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেন তিনি।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পুতুলের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচওর অভিযোগ
চলতি বছরের ৩ জুলাই পুতুলের আইনজীবীদের দেওয়া একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে চীন সফরে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুতুল। তার দাবি, চীন সফরের ব্যয়ের ক্ষেত্রে মাত্র ৯০১ ডলারের একটি রুটিন বিল পরিশোধে তার একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল হয়েছিল।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে পুতুলের বক্তব্য, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন এবং বিষয়টি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক আগে থেকেই জানতেন।
পদত্যাগপত্রে বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেন পুতুল। তার দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি আইনের আওতায় ওই জমির বৈধ অধিকারী ছিলেন।
‘আস্থা হারিয়েছি’
পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালকের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানান সায়মা ওয়াজেদ।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে তাকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক বছর বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল ডব্লিউএইচও।
সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১২ অক্টোবর নতুন মনোনয়ন ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারকদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য এ পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।
২০২৩ সালে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে আটটি ভোট পেয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এর মধ্যে ভারতের ভোটও ছিল।