‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ পরিচয় নয়, দেশের সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশী ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল ১০টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণের এই অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত বলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মতো এক নিষ্ঠুর শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, তবে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের সময়।
তারেক রহমান বলেন, বৈচিত্র্যময় সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-মতের মানুষের সম্মিলনই সৌন্দর্য। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইউরোপ বা আমেরিকা সফরে গেলে সবাই কার্যত ‘সংখ্যালঘু’ হয়ে যান— তাই বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়।
তিনি বলেন, দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ পরিচয় যেন বিভেদ-বৈষম্যের কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’, এবং সব নাগরিকের পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে চিরকাল দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম-সংস্কৃতি পালন করে এসেছে, তবে সময়ে সময়ে ‘কংস চরিত্রের’ মানুষ বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এবং কোনো সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র তার সাধ্যমতো দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের সহায়তা দেবে, বিনিময়ে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে— এই পারস্পরিক আস্থা ও আলাপের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র।
তিনি বলেন, এই দেশ সবার, এবং নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে— ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।
বক্তব্যের শেষে তিনি আসন্ন দুর্গাপূজার আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।