1. info@www.dailysonalisurjo.com : দৈনিক সোনালী সূর্য :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষকরা

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে




নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে উৎপাদিত বোরো ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষকদের অভিযোগ, তালিকায় নাম ও কৃষক কার্ড থাকার পরও অনেকে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাননি। এতে অর্থসংকটের পাশাপাশি ঘরে মজুত ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। দিনের পর দিন গুদামে ঘুরেও ধান বিক্রি করতে না পারার কথা জানিয়েছেন অনেকে। তাদের দাবি, একটি অসাধুচক্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকেরা জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না তারা। কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কৃষক।

ধান বিক্রি করতে না পারায় বসতঘরের ভেতরে ধান মজুত করে রাখতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জায়গার পাশাপাশি ধান রাখায় দুর্ভোগ বেড়েছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন মজুত রাখা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চাটখিল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একটি টিম একাধিকবার সংশ্লিষ্ট অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে যায়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাটখিল উপজেলায় ১ হাজার ১৮৫ জন কৃষকের একটি অনলাইন তালিকা রয়েছে।

খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহকারী কৃষকের সংখ্যা জানতে চাইলে কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ৪৩২ জন কৃষকের একটি তালিকা দেখান। পরবর্তী সময়ে ওই তালিকার তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়।

যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, কৃষি অফিসের ১ হাজার ১৮৫ জন কৃষকের তালিকার সঙ্গে খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করা ৪৩২ জনের তালিকার মধ্যে ২৬৫ জনের নামের মিল পাওয়া গেছে। কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ২৬৫ জনের মধ্যেও প্রায় ৬০ জন কৃষকের কাছ থেকে বাস্তবে ধান সংগ্রহ করা হয়নি।

পরবর্তীতে চাটখিল উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিনের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেন। কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, সরকারি হিসাবে উল্লেখিত ৯১৬ মেট্রিক টন ধান কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকেরা। কৃষি অফিস ও খাদ্যগুদামের তালিকার মধ্যে গরমিল থাকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষক তালিকা, ধান সংগ্রহের পরিমাণ, কৃষকের নাম, কৃষক কার্ড ও ধান সরবরাহের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ বাড়ানো এবং সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ন্যূনতম ৫ হাজার মেট্রিক টন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সোনালী সূর্য-২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!