চাপের কারণে নয়, বরং অ্যাভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসব ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরও উড়োজাহাজ কিনব। বাংলাদেশকে আমরা এশিয়ার একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছি। আমরা একটি গেটওয়ে হওয়ায় আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর এজন্য আমাদের বড় বহর প্রয়োজন। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস যেভাবে বড় হয়েছে, দেখুন তাদের প্রায় দেড়শটির বেশি উড়োজাহাজের বহর আছে সে হিসেবে আমাদের সংখ্যা হয়ত তত বেশি নয়, কিন্তু অবশ্যই আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং কিনতে হবে, এয়ারবাস কিনতে হবে।’
আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক। বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে কোনো চাপ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা হলো আমরা উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি নীতিগত চুক্তিতে এসেছি। আমাদের কোনো চাপ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় আমরা রুটগুলোতে সেবা দিতে পারব না, নতুন রুট খুলতে পারব না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি উড়োজাহাজ না কিনি এবং যদি আমরা আমাদের রুটের নেটওয়ার্ক প্রসারিত না করি, তাহলে আমাদের লোকসান হবে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনার সামর্থ্য থাকলে, আমরা কিনতে থাকব এবং কিনব।’
এ সময়, গত ২৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে দিল্লিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিল্লি পুলিশ, ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবকে (এফসিসি) এই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে একটি উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই সফরটি হবে। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারিখ ঠিক করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।’ তিনি বলেন, কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়।’ কোনো তারিখ নির্ধারণ না করলেও আলাপ-আলোচনা চলছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। আপনারা সবাই জানেন যে আমরা সেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন আবারও আমাদের আলোচনা চলছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায় ।