1. info@www.dailysonalisurjo.com : দৈনিক সোনালী সূর্য :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংগ্রাম, সাহস ও গণতন্ত্রের পথরেখায় এক অবিচল নেত্রীর ইতিহাস নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ জনগণের আস্থা ধরে রাখা: রিজভী জিয়া উদ্যান লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ও দোয়া বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ সামনে ছয় দিন সরকারি ছুটি, আছে দুঃসংবাদও বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী ‘দেশের জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস’

এলএনজি সরবরাহ কমে অর্ধেকে, লোডশেডিং ছাড়াল ৩৬০০ মেগাওয়াট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে




তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কমেছে গ্যাস সরবরাহ। এরই মধ্যে মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালে মেরামত কাজের জন্য প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকায় মোট এলএনজি সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং ৩৬০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যদিও বাস্তবে চাহিদা ৫০০-৫৫০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে কোনোমতে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এরমধ্যে দেশীয় কূপ থেকে ১৬২ কোটি ঘনফুটের মতো এবং বাকি গ্যাস পাওয়া যায় এলএনজি থেকে। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দুটি এলএনজি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। বেশ কিছুদিন ধরে ৭২-৭৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের এলএনজি টার্মিনালে মেরামত কাজের জন্য আজ রাত ৮টা থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ৫৮ কোটি ঘনফুটে নামে। আর সবমিলে ওই সময় গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২১৯ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর এবং ৪ সেপ্টেম্বর দুটি কার্গোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। তার আগেই যেন এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায় সেজন্য এখন সক্ষমতার চেয়ে কম পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সামিটের টার্মিনালে ত্রুটির কারণে সেই সরবরাহ আরও কমে যায়।

সংকটের সূচনা হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে, যখন মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে গ্যাস সরবরাহে ধস নামে। আগস্টের মাঝামাঝি বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে জাহাজ থেকে টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর বিঘ্নিত হয়। এরপর একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনা কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় তা থেকে গ্যাস নিতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ। মাসের শেষদিকে নতুন কার্গো সময়মতো না আসায় আরেকটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাবে আবারও তীব্র আকার নেয় সংকট।

এক মাসেরও বেশি সময় পর এখন টার্মিনাল সচল হলেও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্বস্তি মেলেনি।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১ হাজার এবং কয়লা সংকটের কারণে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল সংকট এবং কিছু কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। অন্যদিকে গরম বেড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে লোডশেডিংও বাড়ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৬৯৯ মেগাওয়াট। ওইদিন সর্বোচ্চ ৩৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। শুক্রবার ছুটির দিনে চাহিদা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের মতো কমলেও মধ্যরাতে লোডশেডিং হয় ৩২৪৪ মেগাওয়াট। পরে দিনের বেলায় চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং কিছুটা কমে। আজ শনিবার বিকাল ৩টায় ৩৬১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩২২ মেগাওয়াট। এর আগে গত ১০ আগস্ট রেকর্ড ৩৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

গ্রামাঞ্চলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই এখন বিদ্যুৎ থাকছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকা, কোথাও কোথাও ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে তীব্র গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। কারখানার মালিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও পড়েছেন মহাসংকটে। তাদের আয় অনেক কমে গেছে।

গ্রামে লোডশেডিং কিছুটা কমাতে গত ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, গরমে চাহিদা বেড়ে গেছে। আবার শিল্পের কথা বিবেচনা করে সেখানে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুতে গ্যাস কমেছে। এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কমেছে উৎপাদন। এ কারণেই লোডশেডিং বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে যতটা সম্ভব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলে পিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সোনালী সূর্য-২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট