বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন।
বার্তায় তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সবার আগে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় বিএনপি, যার মধ্য দিয়ে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি, যাঁর নেতৃত্ব বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
দলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের সংগ্রামে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বার্তায় তারেক রহমান বলেন, দেশে যখনই জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারীশিক্ষার প্রসারসহ একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।” তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।