
আঞ্চলীক ইতিহাস ও গ্রামীণ সামাজিক রূপান্তর বিশেষ প্রতিবেদন: নোয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সুবর্ণচর উপজেলায় অবস্থিত ‘ধানের শিষ’ গ্রাম। সবুজ খেত, সারি সারি গাছ আর বিস্তীর্ণ খামারঘেরা গ্রামটিকে দেখলে মনে হবে শিল্পীর আঁকা ছবি। তবে এই শান্ত ও সমৃদ্ধ গ্রামের সুনির্দিষ্ট নামকরণের পেছনে রয়েছে সত্তরের দশকের এক রক্তক্ষয়ী প্রেক্ষাপট।
সত্তর দশকে নদীভাঙা ভূমিহীন মানুষের আশ্রয়ে গঠিত এই এলাকাটি একসময় ‘পোড়াচর’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে সরকারি জরিপ ও প্রশাসনিক নামকরণের পর এটি ‘ধানের শিষ’ গ্রামে রূপ নেয়।
ইতিহাস ও নামকরণের প্রেক্ষাপট
৫০-এর দশকে মেঘনা নদীর ভাঙনে নোয়াখালীর পুরোনো শহর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ১৯৭০-এর দশকে ওই এলাকায় নতুন চর জাগতে শুরু করে। হাতিয়া, সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া প্রায় ৪০০ পরিবার ১৯৭৭ সালের দিকে পোড়াচরে বসতি স্থাপন করেন।
১৯৭৮ সালে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পোড়াচরে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ঘটে, যেখানে বহু ঘরবাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনার পর চরে আইনি সুরক্ষায় ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক জরিপের মাধ্যমে পোড়াচরের মৌজার নাম নির্ধারণ করা হয় ‘ধানের শিষ’ মৌজা, যা পরবর্তীতে গ্রামের নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি
ধ্বংসস্তূপ পেছনে ফেলে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমান মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। বর্তমানে গ্রামে একাধিক মাদ্রাসা ও স্কুল রয়েছে, এবং গ্রামের তরুণ-তরুণীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০,৯৭৬ জন বাসিন্দার এই গ্রামে কৃষি ও প্রবাস আয়ের পাশাপাশি যুবসমাজ মাছ ও মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখায় গ্রামটিতে এখন ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।