ছবি ভিডিও ভিডিও
বিনোদন

পরীমণিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ | ২:০৯ অপরাহ্ণ

আদালত প্রাঙ্গণে গত ৫ নভেম্বরের ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ রোববার সকালে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তিনজনের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার পরীমণি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আইনি নোটিশে পরীমণিকে ভবিষ্যতে অশ্লীল কথাবার্তা, সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি ও নৃত্যসহ শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে পরীমণিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান পরীমণি। ওই দিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে আদালতের এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে পরীমণির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত হন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের এক বিচারপ্রার্থীও।

নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান, তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবীর নোটিশে বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ কারও নেই।

নোটিশদাতার মতে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ আইনি নোটিশে উত্থাপিত হয়েছে; এগুলো আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়।

error: Content is protected !!