
দেশের ব্যাংক খাতে বড় বোঝা খেলাপি ঋণ। নানা ছাড়ের পরও খেলাপি লাগাম টানতে পারছে না প্রায় সব ব্যাংক। আর খেলাপি আদায়েও তেমন সাড়া নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ঋণ আদায়ে চমক সৃষ্টি করেছে। ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে খেলাপি ঋণ। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, যা মাত্র এক বছর আগে ছিল ১৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সেই িহসাবে গত জুন পর্যন্ত এক বছরে খেলাপি কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঋণ আদায়ের লক্ষ্য ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সেখান থেকে এরই মধ্যে ৪ হাজার ৮৩৮ েকাটি টাকা বা ২৩ শতাংশ আদায় হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৩৬ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। তার মধ্যে খেলাপি ১৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে তা ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। যদিও ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ছিল ১৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ৪৭ শতাংশ। আর গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ আদায় করেছে ৯৬০ কোটি টাকা। আর সম্ভাব্য খেলাপি থেকে আদায় করেছে কমপক্ষে ৫২০ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দেশে ছয়টি সরকারি ব্যাংক মন্দ ঋণ থেকে আদায় করেছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একই বছর মন্দ ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৯টি প্রশাসনিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে তা ২৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে লক্ষ্য ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। সেই বছর আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি বা ২১ শতাংশ। আর সরকারের ঋণ মওকুফ থেকে স্থগিত সুদ আয়ের খাতায় যোগ হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি হতে যাবে— এমন ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এমন ঋণ ছিল ১২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। সেখান থেকে গত অর্থবছরে নতুন করে খেলাপি হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ২০ কোটি টাকা। তার মানে আদায় হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ব্যাংকটির বড় খেলাপিদের কাছে রয়েছে এবং আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এমন খেলাপির পরিমাণ মাত্র দেড় হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শুধু ঋণ আদায়ে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে বিষয়টি তা নয়। বরং প্রবাসী আয়ে অনন্য ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে প্রবাসী আয় আহরণে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দ্বিতীয় শীর্ষ তালিকায় রয়েছে, যা সরকারি ছয়টি ব্যাংকে পেছনে ফেলে প্রবাসী আয় সংগ্রহের তালিকায় প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। মূলত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরেই রেমিট্যান্সে অবস্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
ঋণ আদায়ে বিপ্লব ঘটছে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি-১ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম গতকাল আগামীর সময়কে বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে। আর অধিকাংশ গ্রাহক কৃষক এবং ছোট উদ্যোক্তা হওয়ায় তারা ঋণ আদায়ে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। মূলত শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত ঋণ আদায় এবং বিতরণে অভিনব ছক করা হয়েছে। দৈনিকভিত্তিক ঋণ আদায় এবং বিতরণের বিশেষ ছকে সম্পন্ন হচ্ছে কার্যক্রম। ফলে গত দুই বছরে ঋণ আদায়ে অনন্য নজির স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর নিট ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমেছে। এ গতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছর ব্যাংকটি মুনাফার খাতায় নাম লেখাবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা রাখছি।



