
দীর্ঘ অসুস্থতা ও বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। প্রায় নয় মাস পর ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের মধ্য দিয়ে কাজে ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তানিয়া বৃষ্টি জানান, এর আগে ইকসান রনির পরিচালনায় ‘বাবাও মানুষ’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। নাটকটি দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিল। নতুন নাটকটিও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
তানিয়া বলেন, ‘অংশীদার’ নাটকের গল্পে সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীর সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে এখনো এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে শুধু কন্যাসন্তান থাকার কারণে নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতা ও চিকিৎসার কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
তানিয়া জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে শুটিংয়ের সময় তাঁর মাথাব্যথা শুরু হয়। টানা চার দিন ব্যথা নিয়েই কাজ করার পর পঞ্চম দিনে বমি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষার প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।
অভিনেত্রী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলেন অস্ত্রোপচার করলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছ থেকে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার সময়সীমার কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। জীবনে প্রথমবার এমন বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাঁকে।
তিনি জানান, ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন। সহকর্মীদের কাছেও বিদায় জানিয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়। ওই সময় তাঁর নিজের কোনো অনুভূতি ছিল না। তবে পরে মায়ের কান্না ও প্রার্থনার কথা শুনে পরিবারের কঠিন সময়ের কথা জানতে পারেন।
অসুস্থতার সময় তাঁকে নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছিল বলেও জানান তানিয়া। প্রথমে এসব খবরে খারাপ লাগলেও পরে বুঝতে পারেন, কিছু মানুষ শুধু দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য এমন মিথ্যা খবর ছড়ায়।
কঠিন সময়ে সহকর্মী ও পুরো অভিনয়জগতের সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে তানিয়া বলেন, মোশাররফ করিম, নিলয়, প্রযোজক আলী বশীরসহ অনেক সহকর্মী ও পরিচালক নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। তবে এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর মা ও বোন। বাবাকে হারানোর পর মা রাত জেগে তাঁর পাশে থাকতেন। মেয়ের অসুস্থতার দুশ্চিন্তায় মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী।



