বিজ্ঞাপন

চাটখিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | দুপুর ১২:৫৭
শেয়ার করুন:

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। কিন্ডারগার্টেন, কে.জি. স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর পানির উৎস সরেজমিনে যাচাই এবং গুণগত মান পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পানির উৎসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে আর্সেনিকসহ ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পানির উৎস নিয়ে পর্যাপ্ত তদারকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোথাও টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে পরিশোধিত বা ফিল্টার করা পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। ফলে তাদের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পানির উৎস ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়টি সামনে আসে বলে স্থানীয়রা জানান। পানির মান নিয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, চাটখিলের প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন, কে.জি. স্কুল, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে পানির উৎস পরীক্ষা করা হোক। পানিতে আর্সেনিক বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না, পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কোনো পানির উৎস পরীক্ষায় অনিরাপদ হিসেবে শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পানির উৎস এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি পরীক্ষা করে ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগও কমানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

error: Content is protected !!