বিজ্ঞাপন

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | সন্ধ্যা ০৭:১২
শেয়ার করুন:

পদার্থবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা এবং মহাবিশ্বের দূরবর্তী উচ্চশক্তির উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলজয়ী হিসেবে ফ্রান্সিস হালজেনের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব—এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন হালজেন। পরবর্তী সময়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে মহাবিশ্বের অত্যন্ত দূরবর্তী ও শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘন কিলোমিটার বরফের নিচে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে আলো শনাক্তকারী বিশেষ সেন্সর রয়েছে। নিউট্রিনো বরফের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় যে ক্ষীণ আলোর সংকেত তৈরি করে, সেগুলো শনাক্ত করেই বিজ্ঞানীরা কণাটির উপস্থিতি ও গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে ১১৯ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে বিজয়ী হন অস্ট্রেলিয়ার উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে এক্স-রে ব্যবহার করে স্ফটিকের গঠন বিশ্লেষণের জন্য তিনি নোবেল পান। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার আশকিন। ৯৬ বছর বয়সে জৈবিক ব্যবস্থায় অপটিক্যাল টুইজার ও এর প্রয়োগের জন্য তিনি নোবেল পান।

এর আগে সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল।

আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম মস্তিষ্ক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে—এটি দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে বড় এক রহস্য। বিংশ শতাব্দীতে মস্তিষ্কের কোন অংশ শরীরের কোন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার চেষ্টা শুরু করেন গবেষকেরা। তবে তখনকার প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো স্নায়বিক কার্যক্রমের কারণ ও ফলাফল সরাসরি প্রমাণ করা কঠিন ছিল।

অপটোজেনেটিকস সেই গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতির মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ কীভাবে তৈরি হয়, তা আরও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান পের সভেনিংসনের ভাষায়, অপটোজেনেটিকস এমনভাবে মস্তিষ্কের মানচিত্র তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে, যা একসময় গবেষকদের কাছে কেবল কল্পনাই ছিল।

নোবেল পুরস্কারের এবারের ঘোষণা শুরু হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞান দিয়ে। মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রসায়নে নোবেলজয়ীর নাম জানানো হবে। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যে এবং শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম। অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হবে আগামী ১৩ অক্টোবর।

নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে প্রত্যেক বিজয়ী একটি ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক ও প্রায় ১২ লাখ ডলারের অর্থমূল্য পান। কোনো বিভাগে একাধিক ব্যক্তি পুরস্কার পেলে নির্ধারিত অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুযায়ী এই পুরস্কারের প্রচলন হয়।