বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে বিশেষ অভিযানে ১৭০ জন আটক

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | দুপুর ০২:৫৩
শেয়ার করুন:

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ কার্যক্রমে অংশ নেয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আটক ১৭০ জনের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে আটক বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় চারজন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৭ জন, সেনবাগ থানায় তিনজন, চরজব্বর থানায় ৩২ জন, চাটখিল থানায় ছয়জন এবং কবিরহাট থানায় নয়জনকে আটক করা হয়। পরে এসব ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। অপর ২৮ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

সোনাইমুড়ী থানায় আটক করা হয় ১৮ জনকে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাতিয়া থানায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। বাকি ৪১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।