বিজ্ঞাপন

কাশিয়ানীতে স্কুলের পথে কাদা-পানি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সকাল ০৯:৫৩
শেয়ার করুন:

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ৮৮ নম্বর দক্ষিণ ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, কাদা ও খানাখন্দে ভরা। বছরের প্রায় ছয় মাস এমন দুরবস্থায় থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকা রাস্তাটি স্থানীয়দের জন্য একপ্রকার নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রাস্তা নিচু হওয়ায় পানি সহজে নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারছে না অনেকে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমে যায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়েব আলী বলেন, এলাকার ভেতরে কোনো রোগী অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ভ্যানচালকরাও কাদাযুক্ত এই রাস্তায় আসতে রাজি হন না। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অনেক সময় বাঁশের চোঙ বা অন্য উপায়ে বহন করে নিতে হয়।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, রাস্তাটির কারণে শিক্ষার্থী চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন ও চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, কাদা-পানির কারণে বিদ্যালয়ে যেতে তাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানিয়েছে তারা।

৮৮ নম্বর দক্ষিণ ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা খানম বলেন, বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের প্রধান সমস্যা হলো যাতায়াতের রাস্তার বেহাল দশা। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকাংশে কমে যায়। যারা বিদ্যালয়ে আসে, তাদের অনেকেই কাদা-পানিতে পড়ে যায় এবং ভিজে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি বছরের প্রায় ছয় মাস ধরে চলে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন মিয়া বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি আবেদন পাওয়া গেছে। যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি উঁচু ও পাকাকরণসহ স্থায়ীভাবে সংস্কার করবে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।