নোয়াখালীর চাটখিল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি গুলজার হোসেন সৈকতকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার বিকেলে চাটখিল প্রেসক্লাব ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান। এতে প্রেসক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় গুলজার হোসেন সৈকত অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে তাঁর রয়েল ফার্নিচার কারখানা এলাকায় চয়নসহ তিনজনকে আটক করে চাটখিল থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর ওই ঘটনার জের ধরে গত রোববার বিকেলে চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে চয়ন প্রকাশ্যে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েল ফার্নিচার কারখানার ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সৈকত।
এ ঘটনায় গুলজার হোসেন সৈকত বাদী হয়ে চাটখিল থানায় চয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জসিম মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন দৈনিক নয়া বঙ্গবাজার পত্রিকার সম্পাদক মো. নুর আলম, অধ্যাপক ও সাংবাদিক দীন মোহাম্মদ, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার জুয়েল, মামুন হোসেনসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চাটখিলের বারেক হাওলাদার বাড়ির জামাল হোসেন মনার ছেলে মো. চয়ন (২৩) প্রকাশ্যে গুলজার হোসেন সৈকতকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
বক্তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে চয়ন ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। তাঁরাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সাইফুল ইসলাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত