নোয়াখালীর চাটখিলে একটি জমি-সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকার ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোরশেদ। মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন। একই মামলায় সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের অজ্ঞাতসারে তাঁদের নাম ব্যবহার এবং স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চাটখিল উপজেলার ৩ নম্বর পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া মিজিবাড়ির বাসিন্দা মঞ্জুর মোরশেদ। তাঁর অভিযোগ, একই বাড়ির বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান তাঁকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মঞ্জুর মোরশেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর জমি-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে তিনি চাটখিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান। সেখানে শুনানির প্রস্তুতিকালে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে চাটখিল থানা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সেখানে উপস্থিত হন। কার্যালয়ে শুনানির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নেওয়া হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুর মোরশেদ দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে আগে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। এ ব্যাপারে আদালতের কোনো নোটিশও তিনি হাতে পাননি বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মামলায় জড়িয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত সুরাইয়া খানমও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, তাঁকে এবং তাঁর দুই ছেলেকে মামলায় সাক্ষী করা হলেও বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না।
সুরাইয়া খানম অভিযোগ করেন, তাঁর ভাসুর তাঁদের স্বাক্ষর নকল করে মামলায় ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর যাচাই করা জরুরি। যথাযথ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সাইফুল ইসলাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত