চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিলে মো. মোহন (৩২) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ঘিরে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মোহন চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনারায়ণপুর গ্রামের ইদাগাজী পাটোয়ারী বাড়ির (ঠাকুরান পুকুরপাড়) মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে। তাঁর মা আলেয়া বেগম।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা খবর পান, মোহন তাঁর শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ৯ নম্বর উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুজার দিঘীরপাড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২৫ মিনিটে মোহনের প্রাণহানি ঘটে।
পরে রাতে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফের নির্দেশে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপপরিদর্শক (এসআই) মোসলেহ উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোহনের স্ত্রী মিতু দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাঁকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মোহনকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও গালমন্দ করতেন বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মোহনকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা জোর করে ক্ষতিকর কিছু পান করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনগতভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মোহনের শ্বশুর নবী উল্যাহ স্থানীয়ভাবে ‘চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিত। মোহনের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ঘটনাটি চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনাটি চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটেছে। ভুক্তভোগীর বাড়ি চাটখিলে হওয়ায় এবং তাঁকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্পোরেট অফিস : ৩৪৩ উত্তর নয়ানগর, কোকাকোলা রোড, বারিধারা ব্লক - জে, ভাটারা, ঢাকা ১২১২, মোবাইল : ০১৭৪১০০৩৫১১, ০১৭৪১০০৩৫১৭
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত