দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে প্রতি লিটার জ্বালানির সর্বোচ্চ দর।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ৩১ আগস্টের স্মারকমূলে জারিকৃত ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের মূল্য পরিবর্তন করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো। পুনর্নির্ধারিত এই মূল্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত, যা রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
এ ক্ষেত্রে ডিপোর প্রথম ৪০ কিলোমিটারের অতিরিক্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে সড়কপথে ট্যাংকলরিযোগে জ্বালানি তেল পরিবহনের ভাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারিকৃত গত ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনমূলে নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ, ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। ফলে মার্চ, ২০২৬ থেকে আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বিপিসি’র প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সরকার গত ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিগত ৫ মাস দেশে তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে ডিজেলের মূল্য ভারতে (কলকাতা) ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭.০০ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০.৭১ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪.৭৯ টাকা।
এর ফলে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয়কৃত জ্বালানি তেল পাচার হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে এলএনজি খাতেও প্রচুর ভর্তুকি দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সচল রাখছে। এ ছাড়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রাখতে এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্পোরেট অফিস : ৩৪৩ উত্তর নয়ানগর, কোকাকোলা রোড, বারিধারা ব্লক - জে, ভাটারা, ঢাকা ১২১২, মোবাইল : ০১৭৪১০০৩৫১১, ০১৭৪১০০৩৫১৭
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত